কক্সবাজার সকাল ৯:৪৭ ২২ অক্টোবর, ২০২১ | ৬ কার্তিক, ১৪২৮
  শিরোনাম
মুহিবুল্লাহ হত্যার বিষয়টি মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ আছে: পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গাদের আমরা দাওয়াত করে আনিনি-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউজ পোর্টাল চালু করতে আগেই নিবন্ধন নিতে হবে : তথ্যমন্ত্রী সোনাদিয়ায় নৌক ডুবিঃ ৯৯৯ তে কলে ১৪ পর্যটক উদ্ধার, নিখোঁজ ১ হোয়াইক্যংয়ে স্থগিত দুই ভোটকেন্দ্রের পুন:নির্বাচনে শংকা, ৯ প্রস্তাবনা রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের ৩ উপজেলার ২১ ইউপিতে ভোট ১১ নভেম্বর মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ নিহত ইউপি নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১১ নভেম্বর ২০২১ সালেও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না : শিক্ষামন্ত্রী

দীর্ঘ ৬৫ দিন শেষে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা শুরু


হুমায়ুন সিকদারঃ

সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর গত ২০মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ শিকারে ফিরছে জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, টেকনাফ ও সদরসহ উপকূলের জেলেরা। ৬৫ দিন বন্ধ থাকার পর ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে মাছ শিকার। কেউ কেউ গতরাতে আবার কেউ সকালে সাগরে ফিরছে। গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত বৈরি আবহাওয়া থাকায় অনেকে ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেনা বলে জানায় মাঝি মাল্লা সমিতির নেতারা। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকার অলস সময় কাটানোর পর সাগরে সুফল মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলেরা।
নাজিরারটেক মাঝি মাল্লা সমিতির সভাপতি নুরুল বশর বাদশা জানান,
৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা
বেকার সময় কাটানোর পর এখন আমরা সাগরে যাবো। ঘাটগুলোও জমে উঠবে’। অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবো বলে আশাবাদী।

গতকাল সরেজমিনে বাকঁখালী তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে জাল প্রস্তুতের পাশাপাশি ফিশিং ট্রলার মেরামত করতে দেখা যায়। মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, উপকরণ এবং খাদ্য সামগ্রী ট্রলারে তুলছেন কেউ কেউ।

কালু মাঝি জানায়, বেকার সময় শেষে আমরা ফের সাগরে মৎস্য আহরনের জন্য ফিরে যাচ্ছি।
দেখা যায়, সারি সারি ফিশিং ট্রলার ঘাটে নোঙ্গর দেওয়া। জেলেরা ওইসব ফিশিং ট্রলারে জাল তুলছেন। কেউবা জাল বুনছেন। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। ট্রলার প্রস্তুতে ব্যস্ততায় কাটছে তাদের সময়।

সংশ্লিষ্ট জেলেরা জানায়, ‘গত দুই মাস সাগরে মাছ শিকার বন্ধ ছিল, আমরা কেউ মাছ শিকারে যাইনি। ধারদেনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ তাই সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ‘।

‘২যুগ ধরে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। যখন মাছ ধরা বন্ধ থাকে সেই নিয়মটি আমরা মেনে চলি। এবারও মেনে চলেছি।

সামুদ্রিক মৎস অধিদপ্তর সুত্র জানায়, সাগরে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশসহ সকল প্রজাতির মাছ ধরার ওপর গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অবশেষে সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ। এখন আর জেলেদের মাছ শিকারে যেতে বাঁধা নেই। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের চাল দেওয়া হয়েছিল’।

সংশ্লিষ্ট জেলেরা জানান, । সাগরে মাছ শিকার বন্ধ থাকলেও দেশের নদীগুলোতে মাছ শিকার অব্যাহত ছিল।

সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সরকারিভাবে সারাদেশে নিবন্ধিত ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯৫ জন জেলে ও জেলে শ্রমিক রয়েছে। বাণিজ্যিক ট্রলার রয়েছে ৩০টি। যান্ত্রিক মৎস নৌযান রয়েছে ৩২ হাজার। অযান্ত্রিক নৌযান প্রায় ৩৪ হাজার।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল মাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার টন। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ইলিশ শিকার করা হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। দেশে বছর তিনেক আগেও বিশ্বের ৬৫ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়তো বাংলাদেশে। গত বছর থেকে তা ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

‘বিগত বছরগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে আমরা এ বছর প্রায় ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করা যাবে বলে আশা করছি। ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম রয়েছে’।




এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Developed By e2soft Technology

Share via
Copy link
Powered by Social Snap