কক্সবাজার ভোর ৫:২৬ ৫ আগস্ট, ২০২১ | ২১ শ্রাবণ, ১৪২৮

জলবায়ু শরণার্থী ও বাংলাদেশ

জি. মুনীরঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিরূপ পরিস্থিতির কারণে কোনও স্থানের মানুষ যখন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে বাধ্য হয়, তখন এদের বলা হয় ‘জলবায়ু শরণার্থী’ বা ‘ক্লাইমেট রিফিউজি’। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ এর শিকার হলেও, এখন পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোতেও হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে যাওয়া, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানলে বনবাদাড় ও মানববসতি উজাড় হওয়া, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া, উপকূলের বাড়িঘর ও জমিজমা তলিয়ে যাওয়া, দেশের নদ-নদী ও খাল-বিলের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া কিংবা লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে ফসলের জমিতে সেচের পানির অভাব দেখা দেয়া ইত্যাদি নানা কারণে মানবসমাজ এখন এক জলবায়ু-সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। ক্রমবর্ধমান হারে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিণত হচ্ছে জলবায়ু শরণার্থীতে।

জলবায়ু শরণার্থীদের বিষয়ে তথ্যপরিসংখ্যান খুবই সীমিত। অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল থিংক ট্যাংক আইইপি’র (ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস) ঘোষণা মতে, আবহাওয়া সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশ্বে জলবায়ু শরণার্থীর সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন এখন রূপ নিয়েছে এক বিশ্বসঙ্কটে। যে হারে মানুষ খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঝড়-তুফান, ঘূর্ণিঝড়ের মুখে পড়েছে ও পড়ছে এর আগে তা কখনোই এতটা ভয়াবহ ছিল না। সমুদ্রের পানির উপরিতলের উচ্চতা বেড়ে অনেক দেশের উপকূলীয় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জমিজমাও হারিয়েছে চাষবাসের উপযোগিতা। ফলে সেখানকার মানুষকে বাধ্য হয়ে চলে যেতে হয়েছে অন্য কোথাও : দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে। গত নভেম্বরে মধ্য-আমেরিকার হন্ডুরাস, গুয়েতেমালা ও এল-সালভেদর দুটি বড় ধরনের হ্যারিকেনের শিকার হয়। এটি মেক্সিকো সীমান্ত ধরে চলে যায় আমেরিকার সীমান্ত পর্যন্ত। আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল এখন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। পুড়ে বিনষ্ট হচ্ছে বনাঞ্চল, ধ্বংস হচ্ছে মানববসতিও। ঘটছে বাস্তুচ্যুতি।

সর্বপ্রথম ‘ক্লাইমেট রিফিউজি’ কথাটি চালু হয় জলবায়ু সংক্রান্ত দুর্যোগের কারণে বড় ধরনের আন্তঃসীমান্ত অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি বুঝাতে। গত এপ্রিলে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সম্পর্কিত হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) সূত্রে প্রকাশিত তথ্য মতে, ২০১০ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত দুর্যোগের কারণে বিশ্বে দুই কোটি ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি ও সেচের পানির অভাবের জটিল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদের স্বাভাবিক সংগ্রহ থেকেও। বিগত তিন দশক সময়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া এ ক্ষেত্রে আরেকটি হুমকি। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, এর শিকারে পরিণত বিশ্বের ১৬ কোটি থেকে ২৬ কোটি মানুষ, যাদের ৯০ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশের গরিব মানুষ। সেখানে বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ১৭ শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হবে। আর সেখানে বসবাসরত দুই কোটি মানুষকে সরে যেতে হবে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার ‘আইপি’ প্রকাশ করে ইটিআর (ইকোসিস্টেম থ্রেট রেজিস্টার)। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পাল্টে যাওয়ার হুমকির শিকার হয়ে বিশ্বের কমপক্ষে ১০০ কোটি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারাতে পারে। ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) জানিয়েছে, ২০১৯ সালে জলবায়ুর বিরূপতায় সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে বিশ্বের পাঁচটি দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাস্তুচ্যুত লোকসংখ্যা বিবেচনায় এই পাঁচটি দেশ হচ্ছে যথাক্রমে : ভারত (৫০,১৮,০০০), ফিলিপাইন (৪০,৯৪,০০০), বাংলাদেশ (৪০,৮৬,০০০), চীন (৪০,৩৪,০০০) এবং যুক্তরাষ্ট্র (৯,১৬,০০০)।
বাংলাদেশ সম্পর্কে আইডিএমসি বলেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটে। এই সংখ্যা আরো বেড়ে যায় ২০০৯ সালের ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র মতো দুর্যোগে। আইলার কারণে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটে। কিন্তু তুলনামূলক শান্ত বছরেও সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে চলা থেমে থাকেনি। সেই সাথে বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানির লবণাক্ততা, ফসলহানি ও বন্যার প্রকোপ। যার ফলে দেশের বিরাট উপকূল অঞ্চল হারাচ্ছে মানুষের বসবাসযোগ্যতা। বিশ্বব্যাংকের ২০১৮ সালের এক রিপোর্ট মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ২০৫০ সালের দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ঘটতে পারে এক কোটি ৩৩ লাখ মানুষের। দেশের অন্যতম আবহাওয়া বিজ্ঞানী ও ঢাকাভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর পরিচালক সেলিমুল হক বলেছেন, ‘এখনো যারা উপকূল এলাকায় বসবাস করছে, তারা তাদের জীবনযাপনের উপায় হারিয়ে ফেলার কারণে ভবিষ্যতে সেখানে আর থাকতে পারবে না।’

উপকূলীয় এলাকার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ঠাঁই নিচ্ছে শহরগুলোর বস্তিতে, বিশেষ করে ঢাকার বস্তিগুলোতে। এর ফলে দ্রুত বর্ধনশীল ও বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির শহর ঢাকা দিন দিন আরো ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মনে করা হয়, ঢাকা হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। সে কারণে, সারা দেশ থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষ ছুটে আসছে ঢাকায়। আশ্রয় নিচ্ছে বস্তিতে। কিন্তু ঢাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম গরিব। এখানে সমস্যার শেষ নেই : খাওয়া-থাকার সমস্যা, পানির সমস্যা, স্বাস্থ্য সমস্যা, কাজ পাওয়ার সমস্যা ও আরো কত কি! এর পরও প্রতি বছর নানা কারণে বসতভিটা ছেড়ে ঢাকায় আসছে চার লাখ স্বল্প আয়ের মানুষ। ফলে পরিবেশবিদদের কেউ কেউ বলছেন, ঢাকা সিটি এখন পরিণত হয়েছে জলবায়ু শরণার্থীর বস্তিতে। কিন্তু ঢাকায় এসে তাদের প্রথমেই হোঁচট খেতে হয় কর্মসংস্থান নিয়ে। এ শহরে প্রচুরসংখ্যক শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ও নিরক্ষর মানুষ কর্মহীন। সহজে কাজ মেলা এখানে খুবই কঠিন। তবু জলবায়ু শরণার্থীরা ঢাকামুখী।

এসব জলবায়ু শরণার্থীদের ঢাকামুখী হওয়া ফেরাতে না পারলে ঢাকার পরিস্থিতিও কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আন্দাজ করতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এমনিতেই লোকসংখ্যা বিবেচনায় ঢাকা হয়ে উঠেছে বিশ্বে সপ্তম বৃহত্তম শহর। সম্প্রতি ‘ইকোনমিকস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ প্রকাশ করেছে এর ‘গ্লোবাল লিবেবিলিটি র‌্যাংকিং রিপোর্ট-২০২১’। এই রিপোর্টের ‘গ্লোবাল লিবেবিলিটি ইনডেক্সে’ ১৪০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭তম স্থানে। এ থেকে সহজেই অনুমেয় ঢাকার বসবাসযোগ্যতা কোন পর্যায়ে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ জলবায়ু শরণার্থীদের ঢাকামুখী হওয়া ফেরাতে না পারলে ঢাকার বসবাসযোগ্যতার সূচক যে আরো নিচে নেমে আসবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে নানা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। আমরা জলবায়ু সঙ্কটের প্রভাব অবলোকন করেছি নিকট অতীতেও: গত গ্রীষ্মে আমেরিকার দাবানলে এবং ২০২০ সালে মেগাস্টর্মে। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, হয়তো সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন সমুদ্রের পানির উচ্চতা ২০ ফুট (৬ মিটার) উপরে উঠে আসবে। তখন মালদ্বীপের মতো অনেক দেশ পুরোপুরি তলিয়ে যাবে পানির নিচে। আমাদের উপকূল অঞ্চল তখন বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটাই হওয়া উচিত আমাদের ভাবার বিষয়, যাতে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের জন্য একটি বসবাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে পারি। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অপরাধ কাহিনী সুদীর্ঘ ও ভিন্ন এক বিষয়। স্থানাভাবে সে আলোচনার বিস্তারিতে যাওয়ার অবকাশ এখানে নেই। তবু কিছুটা জানিয়ে রাখি। সাংবাদিক ও পরিবেশবিদদের উদঘাটিত তথ্য মতে, বিশ্বের জলবায়ু সম্পর্কিত নানা অপরাধ কাহিনীর সাথে জড়িত রয়েছে বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানি : এক্সনমোবিল, শেভরন ও শেলসহ আরো অনেক তেল কোম্পানি। অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট মতে, এক্সনের নিজস্ব বিজ্ঞানীরাই কোম্পানির বড় কর্মকর্তাদের বলে আসছেন- মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন একটি বাস্তব সমস্যা, এর সৃষ্টি প্রধানত ফসিল জ্বালানি সূত্রে। এর ধ্বংসক্ষমতা প্রবল। তা ছাড়া শেভরন, শেল ও অন্যান্য তেল কোম্পানির নিজস্ব তদন্তে জানা গেছে, তাদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্বটাকে বসবাস অযোগ্য করে তুলছে। এ কথা শুধু তেল কোম্পানিগুলোই নয়, সবাই জানে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো- তেল কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক ধরে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে গণমাধ্যমের রিপোর্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকার ও তাদের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয়ার পেছনে। তাদের লক্ষ্য এটুকু জানানো : ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন তত্ত¡’ সত্যভিত্তিক নয়।
বিশ্বসমাজ মূল্যবান কয়েকটি দশক নষ্ট করেছে এ বিতর্কে যে : বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাস্তব বা ধ্বংসাত্মক কি না। অথচ এই সময়ে বিশ্বসমাজের উচিত ছিল ফসিল জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উত্তরণ ঘটানো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক এর উল্টোটি। ফসিল জ্বালানির পরিমাণ আরো বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। আজকের দিনে যে গ্রিনহাউজ গ্যাস পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে তোলার জন্য দায়ী, বিগত দশকের নব্বইয়ের দশকের পর থেকে এর জন্য অর্ধেকেরও বেশি দায়ী এক্সন ও অন্যান্য তেল কোম্পানির উদগীরিত গ্রিনহাউজ গ্যাস। তখন থেকেই এসব কোম্পানি নিজেরা জানত কিসের বীজ এরা বপন করে চলেছে। কিন্তু অর্থলিপ্সার কারণে এরা তা প্রকাশ করেনি। বরং এর বিপরীতে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

জিম হ্যানসনের মতো নাসার বিজ্ঞানীরা বিগত শতকের আশির দশকের জলবায়ু বদলে চলার ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছিলেন। তখনই এক্সন ও অন্যান্য তেল কোম্পানিগুলো এ নিয়ে বিতর্ক তোলা বন্ধ করতে পারত। যদি তা করত, তবে আজকের দিনে ‘জলবায়ু শরণার্থী’ শব্দযুগলের সৃষ্টি হতো না। কিন্তু তেল কোম্পানিগুলো যা চালিয়ে যেতে থাকে, তা আজ অভিহিত হচ্ছে ‘বিগ অয়েল লাই’ তথা বড় বড় তেল কোম্পানির বড় মাপের মিথ্যাচার হিসেবে। এই মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে মানবজাতি যে চার চারটি দশক হারাল, তা ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে এখন প্রয়োজন এই চার দশকের ক্ষতি পোষাণোর কার্যকর উপায় বের করা।

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর সমাধানে প্রয়োজন বৈশ্বিক পদক্ষেপ। বিভিন্ন দেশের সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে ফসিল জ্বালানি বন্ধে আইনি সুরক্ষা দিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু শরণার্থীদের মানবাধিকার আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সৃষ্টি করতে হবে বৈশ্বিক অভিবাসন প্রশাসন। ইইউ উদ্যোগী হয়ে সৃষ্টি করতে পারে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স, যা জলবায়ু শরণার্থীদের অভিবাসন সমন্বয় করবে। জাতিসঙ্ঘকে সৃষ্টি করতে হবে এ সংক্রান্ত স্পেশাল রেপোর্টিয়ারের পদ।

রাষ্ট্র, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে হবে। জলবায়ু শরণার্থীদের আইনি স্বীকৃতি, সুরক্ষা ও সহায়তা দানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা চুক্তি করতে হবে। সব দেশকে বাধ্য করতে হবে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি দেশকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি প্রতিটি দেশের সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে জলবায়ু সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট




Share via
Copy link
Powered by Social Snap